| মহেশপুরনিউজ২৪ |
এলাকাবাসী, আটককৃত ছিনতাইকারী দলের সদস্য ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার রতিরামপুর গ্রামের মৃত সোবহান মন্ডলের ছোট ছেলে পলী চিকিৎসক আব্দুর রহিম (৪০) গতকাল সোমবার রাত ৮ টার সময় মনোহরপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন।
সে উথলী আমতলা-রতিরামপুর সড়কের জ্যাকি ইটভাটার কাছে পৌঁছুলে ৭/৮ জনের ছিনতাইকারী দল তার পথরোধ করে এবং তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করে। এ সময় সে বাধা সৃষ্টি করলে ছিনতাইকারী দল রহিমকে লক্ষ্য করে পরপর দু’টি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরিত বোমার আঘাতে রহিমের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে সে গুরুতর আহত হয়। এদিকে বিস্ফোরিত বোমার বিকট শব্দে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। সাথে সাথে উথলী আমতলা ও রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এবং বোমাঘাতে গুরুতর আহত আব্দুর রহিমকে মুমুর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথমধ্যে ভিমরুলা নামক স্থানে পৌঁছুলে রহিমের মৃত্যু হয়।
এদিকে বোমা বিস্ফোরণ হবার আধাঘন্টা পরে উথলী বাস স্ট্যান্ড মোড়ে অপরিচিত এক যুবক রক্তমাখা জামা গায়ে সন্ধেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে থাকে এবং মোবাইলে উথলী গ্রামের এক চিহ্নত ডাকাতের নাম উচ্চারন করে বলে, ‘আমি পথ হারিয়ে ফেলেছি, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যা।’ এ সময় বিষয়টি সন্ধেহ হলে উপস্থিত জনতা তাকে আটক করে।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের এএসআই আশরাফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছিনতাইকারী দলের ফেলে যাওয়া পিস্তলটি জব্দ করে এবং জনতার হাতে আটক হওয়া ওই যুবককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম জিয়া (২৫)। সে দামুড়হুদা সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত জিয়া পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে সে ছিনতাইকারী দলের সদস্য। মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেবার সময় বাধা দেবার কারণে বোমা মেরে পথচারিকে হত্যা করা হয়েছে। ছিনতাইকারী দলে তার সাথে উথলী গ্রামের একজনসহ আরো ৩ জনের নাম পুলিশের কাছে বলেছে। কিন্তু গ্রেফতারের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।
নিহত রহিমের পরিচয়ঃ নিহত রহিম এর বাড়ি রতিরামপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত সোবহান। তিন ভাই ও ২ বোনের মধ্যে রহিম ছিল সবার ছোট। নিহত রহিমের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে পিয়াশির বয়স ১৩ বছর। সে এবার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। ছোট ছেলে ইয়াছিনের বয়স ৮ বছর। সে ২য় শ্রেনীর ছাত্র। নিহত রহিম কর্মজীবনে একজন পলী চিকিৎসক। মনোহারপুর বাস স্ট্যান্ডে তাঁর পলী চিকিৎসকের ওষুধ ঘর রয়েছে।