মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১২

মহেশপুরে ৩১ বছর পর হত্যা মামলা, আসামির বয়স তখন সাত

৩১ বছর আগে এক ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে দায়ের করা মামলায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতাসহ আটজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে ঝিনাইদহের একটি বিচারিক আদালত। রোববার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। খুনের সময় মামলার আসামিদের বয়স ছিল ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ১৯৮১ সালে মহেশপুর উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের বদর উদ্দীন নামে এক ব্যক্তি গুম হন। তিনি আরো জানান, ৩১ বছর পর কথিত গুম হওয়া ব্যক্তির ছেলে আলাউদ্দীন গত মার্চ মাসে আদালতে মামলা করেন। এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকা আসামিরা স্থায়ী জামিন নিতে গেলে নিম্ন আদালত আটজনের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান বলে ওসি জানান।

মামলার আসামিরা হলেন- মহেশপুর উপজেলা বিএনপির নেতা ও ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম সরদার, তার ভাই স্কুলশিক্ষক আব্দুল হালিম, ভোলা সরদার, আব্দুল হক, আব্দুর রউফ, চাচা ফকির সরদার, স্থানীয় মসজিদের ইমাম আশরাফুল ইসলাম, আজিজার রহমান ও আইনাল হোসেন।

বিষয়টি নিয়ে কোর্ট হাজতে আটক বিএনপি নেতা কাসেম সরদার সাংবাদিকদের জানান, ১৯৮১ সালে রাখাল ভোগা গ্রামের বদর উদ্দীন রোগে আক্রান্ত হলে তাকে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মির্জাপুর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং সেখানে তার অপারেশন হয়।

তিনি আরো জানান, এরপর কয়েক দিন পর আশরাফ হোসেনসহ এলাকার অনেকে তাকে দেখতে ঢাকা যান। হাসপাতালে গিয়ে তারা জানতে পারেন রোগ জনিত কারণে বদর উদ্দীনের মৃত্যু হয়েছে এবং তার সঙ্গে কোনো স্বজন না থাকায় সেখানকার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। অথচ বদরের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করতে গিয়ে আজ আমাদের গুম মামলায় জড়িয়ে তার ছেলে আলাউদ্দীন হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন মসজিদের ইমাম আশরাফুল মোল্লা।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার অনেক আসামির বয়স সে সময় ছয়/সাত বছর ছিল। তাদের প্রশ্ন শিশু বয়সে তারা কিভাবে গুম করলো? অথচ বিএনপির করার কারণে স্থানীয় এমপির ইন্ধনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এমন একটি মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আলাউদ্দীনের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।bd24live