শহর থেকে প্রত্যমত্মপল্লীতে সুখের উচ্ছাসে কাঁপছে গোটা শৈলকুপা। জোট
সরকারের আমলে প্রাপ্তি আর প্রত্যাশার বাড়তি আয়োজনের খবর এখন সবার মুখে মুখে
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হাই এর নাম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-কোন্দল
মিটানোর আশায় বুক বেঁধে অভ্যামত্মরীণ ইমেজ বাড়াতে এ মুহুর্তে প্রতিমন্ত্রীর
পদটি বিশেষ বাটিকা হিসাবে কাজ করতে পারে বলে মমত্মব্য করছেন সচেতন মহল।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই তাঁর প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার
সর্বত্র। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে শৈলকুপার
আপামর জনতা।
উপজেলার মুহাম্মাদপুর গ্রামের রাজনীতিবিদ আব্দুল হাই অনেক আগে থেকেই
ঝিনাইদহে বসবাস করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল ও ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ৭
বছরের অধিক সময় ক্ষমতায় থাকলেও শৈলকুপার মানুষের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালে
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নকে ঘিরে
নেতাকর্মীদের বিবাদে দুই ভাগে বিভক্ত হয় শৈলকুপা আওয়ামীলীগ। এক পক্ষের
নেতৃত্বে উপজেলা চেয়ারম্যান নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার, পৌর মেয়র কাজী আশরাফুল
আজমসহ একাধিক চেয়ারম্যান এবং অন্যদিকে থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক
শিকদার মোশারফ হোসেন সোনা, থানা আ’লীগের প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমানসহ
বেশিরভাগ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমেই জটিল হয়ে দু’গ্রুপের
বিবাদ ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে
হামলা-মামলা, সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট এমনটি খুনের ঘটনাও বাদ পড়েনি
যার নেপথ্যে রয়েছে আ’লীগের গ্রুপিং দ্বন্দ্ব ও জামায়াত বিএনপির অনুপ্রবেশ।
গত ১৮ এপ্রিল ২০১১ শৈলকুপা পৌরসভায় ১৪৪ ধারা ভেঙে দিবালোকে শৈলকুপা বাজারের
মধ্যে চৌরাস্তা সংলগ্নে কাজীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ হত্যাকান্ডের ঘটনায়
বিবাদ চরমে ওঠে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মরিয়া হয়ে ওঠে অনেক নেতা। বিরোধ
মিটাতে ব্যর্থ সংসদ সদস্য আব্দুল হাই এমন অভিযোগও কম নয়। ৩৫ জন নেতা-কর্মীর
মধ্যে ৩২ জন কারাবরণের পর জামিন ও অন্যরা পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন
বলে জানা গেছে। সর্বশেষ গত ১১ মে ২০১১ আড়ুয়াকান্দী গ্রামের আক্কাস আলী
টুলু হত্যাকে কেন্দ্র করে ৫৫টি বাড়িঘরের মানুষ এখনও গ্রাম ছাড়া।
বিরাণভূমিতে পড়ে থাকা আড়ুয়াকান্দি গ্রামের টুলু হত্যার ৩৩ আসামীর মধ্যে
অনেকেই আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী। সবমিলিয়ে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের
নেতাকর্মীরা ভাল নেই বলে উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক মাঠ দখল ও দলীয় অবস্থানকে শক্তিশালী করার মত নেতাকর্মীদের
সিংহভাগই এখনও মামলার আসামী। এক্ষেত্রে পূর্ব থেকে সংসদ সদস্য আব্দুল হাই
শক্তভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বিপরীত চিত্র আশা করা যেত বলে সুধিমহলের
ধারনা।
পক্ষপাতিত্ব আর দ্বন্দ্ব-সংঘাতের জের ধরে পৌরশহর থেকে শুরু করে
প্রত্যমত্মপল্লী পর্যমত্ম ঘরছাড়া বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি আওয়ামীলীগেও
অভ্যমত্মরীণ দ্বন্দ্ববিবাদ চরমে। বিভিন্ন ঘটনায় একের পর এক হামলা-মামলা
সংঘর্ষ আর হত্যাকান্ডের দায় অস্বীকার করতে পারেনি শৈলকুপার রাজনৈতিক
নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক জটিলতার ফাঁক-ফোকরে অভ্যমত্মরীণ কোন্দল বৃদ্ধির নতুন
জের সহিংসতার মাঠে গড়ার আগেই প্রতিমন্ত্রীর খবর বাতাসে ভর করায় ঘুরে
দাড়িয়েছে শৈলকুপা আওয়ামীলীগ। আসামীর তালিকায় থাকা হতাশাগ্রস্থ নেতাকর্মীরা
যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সবাই আশা করছে নতুন এ খবরের পর প্রতিমন্ত্রীর
হসত্মক্ষেপে শৈলকুপা আওয়ামীলীগ রাজনীতির মাঠ ঢেলে সাজাবে। দ্বন্দ্ব-বিবাদ
মিটিয়ে গণমানুষের জন্য কাজ করবে। এখন অবেলা হলেও জোট সরকারের আমলেই
শৈলকুপার রাসত্মা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, স্বাস্থ্য-কৃষিখাত,
শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ সার্বিক উন্নয়নচিত্রের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে।
বৃদ্ধিপাবে সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড ও তরান্বিত হবে অগ্রজ
তরুন মেধাবীদের আগামযাত্রা। প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের এ উপজেলায় সামাজিক
অস্থিরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনীতিবিরা রক্তের হলিখেলায় নামতে পারে বিভিন্ন
সংস্থার তথ্যজরিপে এমন আভাস উঠে আসার শেষ সময়ে প্রতিমন্ত্রী পদের বাটিকা
কতটুকু সফলতার দ্বার উন্মোচন করতে পারে সে অপেক্ষায় শৈলকুপাবাসী নতুন করে
বুক বাঁধছে। ssk
