মহেশপুরনিউজ২৪:: পান চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদল করেছেন ঝিনাইদহের তিন ইউনিয়নের ১০
গ্রামের মানুষ। অর্থকরী ফসল হওয়ায় সদর উপজেলার বিষয়খালী, কাপাশাটিয়া ও
সাধুহাটি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে পান চাষের আবাদী জমির পরিমান বাড়ছে। তাছাড়া
ঝিনাইদহে দেশী পান সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এখানকার পানের চাহিদা থাকায়
এখানকার কৃষকরা দিন দিন পান চাষে ঝুঁকে
পড়ছেন। এদিকে, পান চাষ করে অনেক মহিলা নিজেরাও স্বাবলম্বী হয়েছেন। সারা বছর
পানের বরজে কাজ থাকায় ওইসব এলাকার অনেক দরিদ্র-দিনমজুরদের কর্মসংস্থানের
সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
পানচাষী শাহিন মোল্যা জানান, ধান-পাট-গম আবাদ করে উতপাদন খরচের তুলনায় এখন
আর তেমন লাভ থাকেনা। পান চাষে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও ভালভাবে পানের বরজের
যত্ন করতে পারলে এটা বেশ লাভজনক। তাছাড়া পান গাছ লাগানোর তিন-চার মাসের
মধ্যে ফলন আসে এবং সপ্তাহে দুই-তিনদিন করে পান তুলে বাজারে বিক্রী করা যায়।
এক বিঘা জমিতে পানের বরজে খরচ হয় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর পান
বিক্রী করে বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়। একটি পানের বরজ থেকে
প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর পান উতপাদন পাওয়া যায়। তবে পানচাষীরা অভিযোগ করে
বলেন, তাদের এলাকায় পানচাষ জনপ্রিয় একটি ফসল হলেও কৃষি বিভাগ থেকে তারা কোন
সহায়তা কিংবা পরামর্শ পাননা। পান চাষী ও পাইকাররা জানান,এখানকার পান
সুস্বাদু হওয়ায় ঢাকা , চট্রগ্রাম , সিলেট বিভাগে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ঝিনাইদহ কৃষি কর্মকতারা বিধান চন্দ্র
বিশ্বাস জানান, লাভজনক হওয়ায় সদরের তিনটি ইউনিয়নে পানচাষ দিন দিন বাড়ছে। এ
বছর প্রায় ১৮২৭ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। তারা পানচাষীদের অভিযোগ
অস্বীকার করে বলেন, আমরা পান চাষীদের বিভিন্ন রোগবালাই ও পান আবাদ সম্পর্কে
কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করে আসছি।