বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৬

চলে গেলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম মাষ্টার

মহেশপুর: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম মাস্টার বৃহস্পতিবার বিকেলে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে-----রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস রোগে ভুগছিলেন। গত বছর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। বিএনপির এই নেতার বড় ছেলে রনি জানান, বৃহস্পতিবার ঢাকার গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে বিকেল ৩টায় তার বাবা ইন্তেকাল করেন। সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম মাষ্টারের মরদেহ তার বনানীর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া
হয়েছে।
শুক্রবার ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর গ্রামে তাকে দাফন করা হবে। পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, ১৯৪৯ সালে শহিদুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম রাহাতুল্লা সরদার। আর মায়ের নাম ফজিলতুন্নেছা। চার ভাইয়ের মধ্যে শহিদুল ইসলাম ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি মহেশপুর হাই স্কুলের ক্রিড়া শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতা পেশা থেকে ৯০ সালে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯১ সালে শহিদুল ইসলাম মাষ্টার বিপুল ভোটে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দলীয় তহবিলের টাকা নির্বাচন শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে ফেরৎ দিয়ে তিনি নজীর সৃষ্টি করেন। এরপর তিনি আরো ৩ বার ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় অভুতপূর্ব উন্নয়ন কাজ সাধন করেন। তিনি বিদ্যু, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি হয়ে ঝিনাইদহ জেলায় বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার শত শত কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করেন। এছাড়া রাস্তা, ব্রীজ, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের ভবন নির্মাণ করে জনগণের আস্থা অর্জন করেন।