খুলনা
বিভাগের ১০ জেলায় আজ রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের
ডাক দিয়েছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি
বন্ধ, যানজট নিরসন, যাত্রী ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে এ ধর্মঘটের
ডাক দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে যশোর আন্তঃজেলা বাস সিন্ডিকেট
কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন তারা।
সংবাদ
সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, তাদের এ ৬ দফা বাস্তবায়নের জন্য বার বার
তাগিদ দেওয়া হলেও তা আদায় না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
দিলেন। আহুত এ ধর্মঘটের ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে খুলনা বিভাগের
১০ জেলার যোগাযোগ বন্ধ থাকবে। তবে পঁচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপ চলাচল
করতে চাইলে তাদের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পরিবর্তে যমুনা সেতু ব্যবহার করত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয়
পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম বক্স দুদু মিয়া, আন্তঃজেলা বাস
সিন্ডিকেটের সভাপতি পবিত্র কাপুড়িয়া, বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির
সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা
আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নানামুখি সমস্যা বিরাজ করছে।
এব্যাপারে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বার বার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে
আসলেও কর্তৃপক্ষ তা সমাধানে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এজন্য মালিক-শ্রমিকরা
আন্দোলনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ
আন্দোলন চলবে বলে সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়। ধর্মঘট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ
পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু জানান, রোববার (আজ)
থেকেই খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট শুরু হবে এবং দাবি
না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে। এ দিকে আমাদের মংলা প্রতিনিধি এইচ এম দুলাল
জানান, গতকাল সকাল ৭টায় খুলনা-মংলা মহাসড়কে যাত্রীবাহি বাসের ওপর হামলা
চালিয়ে প্রায় অর্ধশত যাত্রীকে আহত করেছে নছিমন চালকরা। যাত্রীদের কাছ থেকে
জানা গেছে, খুলনা-মংলা মহাসড়কে গোনাই ব্রিজ নামক স্থানে খুলনা থেকে মংলার
উদ্দেশে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহি বাস গোনাই ব্রিজ পৌঁছামাত্রই ৩০/৩৫ জন নছিমন
চালক একত্রিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাসের গ্লাসে ইট পাটকেল মেরে তছনছ
করে এবং বাসের চালক ও কন্ডাক্টর, হেলপারকে মারধর করে। সাথে সাথে তাদের কাছে
থাকা টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। তাদের হামলায় প্রায় অর্ধশত যাত্রী আহত হয়। এ
খবর শুনে অন্যান্য বাস চালকরা তাৎক্ষণিকভাবে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। prabaha
