মঙ্গলবার, ২৮ আগস্ট, ২০১২

মহেশপুরে মহিলা মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

মহেশপুর উপজেলা শহরের জমিদারপাড়া মহিলা মাদ্রাসা সুপারের বিরম্নদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা দোলোয়ার হোসেন সাইফ মাদ্রাসার ৬ষ্ট শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে প্রায় দেড় মাস মাদ্রাসায় নজরবন্দি করে আটকে রাখে। ধর্ষিতা ছাত্রী নিজেই বাদি হয়ে রোববার মহেশপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে।

থানায় এজাহারের অভিযোগে জানা গেছে, ধর্ষিতা ছাত্রীর বাড়ি কোটচাঁদপুর উপজেলার কাগমারী গ্রামে। তার পরিবার খুবই গরীব। মা চট্রগ্রাম এক গার্মেন্টসে চাকুরি করে বাবা রিক্সা চালায়। মেয়েটি মহেশপুর উপজেলার জমিদার পাড়া মহিলা মাদ্রাসার মেসে থেকে লেখা-পড়া করে। জুন মাসে মাদ্রাসা ছুটি দেওয়ার পর মেয়েটি যুগিরগুদা গ্রামে তার খালা কুলসুম বেগমের বাড়িতে যায়। গত ১৪ জুন মাদ্রাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন সাইফ বিকালে মোবাইল ফোনের মাধেমে তাকে মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে জোর পুর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর থেকে প্রায় দেড় মাস তাকে মাদ্রাসার বাহিরে যেতে দেওয়া হয়না। এমনকি এ ঘটনার কথা বাহিরে বলা হলে তাকে জীবনে শেষ করে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হতো। এক পর্যায়ে মেয়েটি তার বান্ধবীদের সাথে ধর্ষণের ঘটনা খুলে বললে জানা-জানি হয়ে যায়। গত ঈদের ছুটিতে খালা বাড়ির লোকজন তাকে মাদ্রাসা থেকে আনতে গিয়ে ঘটনা জানতে পারেন।
মেয়েটির খালা কুলসুম বেগম জানান, ঘটনা সত্য। আমার বাসা থেকে হুজুর মোবাইলে ফোন করে নিয়ে যায়। ঘটনার দিন হুজুরের বউ বাসায় ছিল না। সে একা ছিল। হুজুর প্রথমে মেয়েকে মোবাইল ফোনে নোংরা ছবি দেখায়। সে মেয়েটিকে নষ্ট করে মাদ্রাসায় কৌশলে মাদ্রাসায় নজরবন্দি করে আটকে রাখে।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন সাইফ জানান, ঘটনাটি বেশকিছুদিন আগের। ওই ছাত্রীর সাথে আমার পর্দ্দার আড়াল থেকে কথা হয়েছে। বাস্তবে কিছু হয়নি। তার পরও  মেয়েটি গরীব হিসাবে তাকে ৪/৫ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে মেনে নেয়নি। রোববার সন্ধ্যায় থানায় বসে মিমাংসা করা হবে বলে হুজুর জানান।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, মহিলা মাদ্রাসা সুপারের বিরম্নদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়েটি নিজেই থানায় এসে অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদমত্ম পুর্বক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে । shesherkhabar