মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১২

জীবননগরে মাদরাসা ছাত্রীকে বশিকরণ প্রচেষ্টা : অনিশ্চিত জীবনের পথে মেধাবী ছাত্রী লিমা

মহেশপুরনিউজ২৪:: জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাকা দারুস সালাম দাখিল মাদরাসার এক ছাত্রীকে প্রেম নিবেদন ও বৃত্তি না পাওয়া থেকে বিরত রাখতে গিয়ে সহপাঠী ৪ ছাত্রের বশিকরণ প্রচেষ্টার পর মেধাবী ছাত্রী লিমা খাতুনের (১৩) অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। তাবিজ-কবজ ও গাছড়া ওষুধ খাতওয়ার ফলে অস্বাভাবিক আচারণ করতে থাকা লিমার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। যশোর হাসপাতাল থেকে তাকে খুলনার একটি মানসিক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় ইতোপূর্বে লিমার পিতার দায়েরকৃত মামলায় সম্পূরক আসামীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার এ মামলায় আরও ২জনকে আসামী করা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদের নির্যাতনের পর তারা কি অবস্থায় রয়েছে সর্বশেষ তার কোন খবর পাওয়া যায়নি।
গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, পাকা গ্রামের দিনমজুর আলী মন্ডলের ২ ছেলে মেয়ে। লিমন ও লিমা অসম্ভব মেধাবী হওয়াতে দরিদ্র দিনমজুর পিতা তাদের লেখাপড়ায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। ছেলে যশোর এমএম কলেজে লেখাপড়া করাসহ মেয়ে গ্রামের মাদরাসার ৮ম শেণির ছাত্রী। ৫ম শ্রেণিতে সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ করে। শিক্ষকদের আশা ছিলো এবারের জেএসসি পরীক্ষায় সে উপজেলা ফাস্ট হবে কিন্তু তাদের সে আসায় বালি দিয়ে লিমাকে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফেলে দিয়েছে মাদরাসারই ৪ ছাত্র। গ্রামের শরীফুল ইসলামের ছেলে লিমার সহপাঠী সজিব তাকে প্রেম নিবেদন করে। এসময় সজিবের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে অপর ৩ সহপাঠী আব্দুস সালাম বিশ্বাসের ছেলে তারেক জামিল, আব্দুল মোমিনর ছেলে মোতালেব হোসেন ও অন্ধ হাফেজ হিসেবে পরিচিত মান্দারবাড়িয়ার খেদের আলীর ছেলে আশরাফ আলী। অন্ধ হাফেজ আশরাফ আলী রাঙামাটি থেকে তাবিজ-কবজের বই সংগ্রহ করে লিমাকে প্রেমে বশিকরণ ও বৃত্তি যাতে না পায় তার জন্য তাবিজ-কবজ করা শুরু করে। এর মধ্যে জেএসসি পরীক্ষা শুরু হয় পরীক্ষার ৪র্থ দিনে তারা তাকে কৌশলে গাছড়ার রস মিশ্রিত কোল্ড ডিংকস খেতে দেয়। এ ঘটনার পর পরীক্ষার হলে লিমা অস্বাভাবিক আচারণ শুরু করে। ফলে তার পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে গত ২১ নভেম্বর গ্রাম্য সালিস বসে। সালিসে লিমাকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা চালাতে উক্ত ৪ ছাত্রের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা সাময়কি জরিমানা করা হয়। এদিন সালিসসভায় তাদের অভিভাবকরা অভিযুক্ত ছাত্রদের চড়-থাপ্পর মারে। এ সালিসসভার পর অভিযুক্ত ছাত্রদের পরিবার টাকা না দিয়ে উল্টো ছাত্রদের ওপর নির্মম অত্যাচার করার অভিযোগ বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করে। ফলে মূল ঘটনা ধামাচাপে পড়ে বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেন। বর্তমানে মস্তিষ্ক বিকৃত লিমাকে খুলনার একটি মানসিক নিরাময় কেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে। গ্রামবাসীর সাহায্য সহযোগিতায় তার চিকিৎসা চলছে। এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ি ছাত্রদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এদিকে লিমার পিতার দায়েরকৃত মামলায় আসামীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গতকাল মামলায় সম্পূরক আসামীসবে আরও ২ জনের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।