শনিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৩

টিআইবি জরিপ : ঝিনাইদহ হাসপাতালে সবটুকু ওষুধ পান ১১.৯০ শতাংশ রোগী

মহেশপুর নিউজ২৪:: জেলার ১৮ লাখ মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে মাত্র ১১.৯০ শতাংশ রোগী চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশান মোতাবেক সরকারিভাবে সবটুকু ওষুধ পেয়ে থাকেন।
এছাড়া ৩২.৩৮ শতাংশ রোগী হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ পান না। মোটামুটি ওষুধ পান ৯.১১ শতাংশ।

রোববার দিনব্যাপী ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস মিলনায়তনে আয়োজিত টিআইবি ও সচেতন নাগরিক সমাজের এক গবেষনা জরিপে এ তথ্য জানানো হয়।
জরিপে আরও বলা হয়, হাসপাতালের সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে অবৈধ পন্থায় টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সচেতন নাগরিক সমাজের ঝিনাইদহ ইউনিটের সভাপতি শরিফুন্নেছার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. কামাল হোসেন, টিআইবির রেজাউল করিম, খোরশেদ আলম ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাশেদ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
 জানা গেছে, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর থেকে একই বছরের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৩৯ জন তথ্যদাতার কাছ থেকে টিআবি এই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এ গবেষণা জরিপ তৈরী করা হয়েছে।


তথ্যদাতাদের মধ্যে ৬৩.৬৪ শতাংশ ছিলেন রোগী ও ৩৬.৩৬ শতাংশ ছিলেন রোগীর এ্যটেনডেন্ড।

গবেষণা জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যার হলেও মুলত ৫০ শয্যার লোকবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
এতে আরও জনবল সংকটের পাশাপাশি ইনডোর ও আউটডোরে সেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ ও অসন্তুষ্টির কথা তুলে ধরা হয়।
জরিপে বলা হয়েছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রোগী বহনের জন্য ট্রলি ভাড়া দিতে হয় গড়ে ২৭ টাকা ৫০ পয়সা।

এছাড়া ড্রেসিং করার জন্য গড়ে ৭২.৫০ টাকা, আয়া-ওয়ার্ড বয়ের সেবা নিতে ৩৫ টাকা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৫৬ টাকা, রক্ত পরীক্ষার জন্য ৫১.৪৩ টাকা ও ৬৭.৫৭ শতাংশ প্রসূতি রোগীর কাছ থেকে ২০৩ টাকা করে আদায় করা হয়।
জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালের আউটডোর থেকে প্রাপ্ত সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৭২.০৯ শতাংশ। পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মাত্র ১২.৫০ শতাংশ। জরুরী বিভাগের সার্বিক সেবায় সন্তুষ্ট মাত্র ৩.৫৩ শতাংশ রোগী।
ইনডোরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬১.৭৭ শতাংশ। পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ০.৯২ শতাংশ। ডাক্তারের সেবায় সন্তুষ্ট ৭১.৮২ শতাংশ।

হাসপাতাল থেকে সরবরাহকৃত ওষুধের মানে সন্তুষ্ট ৩১.৮০ শতাংশ। আয়া ও ওয়ার্ডবয়ের সেবাই খুবই সন্তুষ্ট ১.৮৩ শতাংশ।
জরিপের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সেবাদান প্রক্রিয়ায়।
আরও বলা হয়েছে হাসপাতালের প্রধানতম সমস্যা জনবল সংকট। সরকারিভাবে আয়া, নার্স ও ওয়ার্ডবয় না থাকায় মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের আচরণে বিশৃংঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।

এর বাইরেও হাসপাতালে কাঁথা, বালিশ ও বিছানার সঙ্কটের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় পানি জমে নোংরা হচ্ছে পরিবেশ। নেই জেনারেটর ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র।