মহেশপুর নিউজ২৪:: সকালে একটি পাতলা রুটির সঙ্গে এক আঙ্গুলে ওঠা কায়েক ফোটা গুড়, দুপুরে ডালের
সঙ্গে গন্ধ চালের ভাত ও রাতে দুর্গন্ধযুক্ত সবজির পাশাপাশি নামেমাত্র মাছ ও
মাংসের তরকারি। এই হচ্ছে ঝিনাইদহ জেলা করাগারে বন্দিদের প্রতিদিনের
খাবারের তালিকা।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে খাবারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হাসপাতাল বেড নিয়ে অর্থ বানিজ্য এবং বন্দিদের সঙ্গে দেখা করার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়।
কারাগার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কয়েদি হাজতিদের নিয়ে কারা প্রশাসন, ঠিকাদার ও কারাগারের মধ্যে মেট নামে মাস্তানদের দৌরাত্ম্য চলে আসলেও কোনো প্রতিকার নেই।
বন্দিদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলেই মারধরের সঙ্গে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে সাজা ও বেশি বাড়াবাড়ি করলে যশোর জেল খানায় পাঠিয়ে হয়রানী করা হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, সরকারি নিয়ম না থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থী ফি হিসেবে ৫ টাকা আবার কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি নিচ্ছেন। এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়না। পুরোটায় ভাগাভাগি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সব সময় সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতার আত্মীয়স্বজনরা কারাগারের ঠিকাদারী পেয়ে থাকেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা নিম্নমানের তেল, কাঁচা বাজার, মাছ ও মাংস সরবরাহ করে থাকেন।
বন্দিদের অভিযোগ মাংসের তরকারিতে মাংস এবং মাছের তরকারিতে মাছ পাওয়া দুস্কর। করা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজসে ঠিকাদাররা বন্দিদের মাথাপ্রতি বরাদ্দ লোপাট করছেন নিম্নমানের খাবার দিয়ে।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সুপারেনটেনডেন্ট ইকবাল হোসেন জানান, ১৯১৮ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার শহরের নবগঙ্গা নদীর তীরে ৫২ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ঝিনাইদহ উপ-কারাগারটি স্থাপন করেন।
তিনি আরও জানান, ৯২ বছর একইস্থানে ৫২ জনের পরিবর্তে ৫ থেকে ৬শ বন্দি নিয়ে উপ-কারাগারটি দাড়িয়ে ছিল। ২০১০ সালে ঝিনাইদহের মথুরাপুর নামক স্থানে জেলা কারাগারটি নতুন আঙ্গিকে নির্মাণ শেষে চালু করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতা দুইশ হলেও বর্তমান ৫৪৩ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৫২৬ ও মহিলা ১৭ জন। করাগারটিতে এখন বিচারাধীন মামলায় ৩৭৩ জন হাজতি ও সাজাপ্রাপ্ত ১৭০ জন কয়েদি রয়েছের। একজন বন্দি ব্রিটিশ সরকারের করা নিয়মে কারাগারে ৩৬ স্কয়ার ফিট স্থান পেয়ে থাকেন।
জেল সুপার ইকবাল হোসেন জানান, করাগারে একজন বন্দি সারাদিনে মাত্র ৪০ টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ পাচ্ছেন। ব্রিটিশ সরকারের আমলে তৃতীয় শ্রেণীর বন্দির জন্য এই বরাদ্দ এখনো রয়েছে, যা বর্তমান দ্রব্যমুল্য ও বাস্তবের চাহিদায় অপ্রতুল বলে তিনি মনে করেন।
তিনি খাবার নিয়ে বন্দিদের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারিভাবে গুদাম থেকে যে চাল ও গম বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাই বন্দিদের খাওয়ানো হয়। চাল ও গমের মান ভালো নয় বলে তিনিও মনে করেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী এলাকার ডাকাতি মামলায় আটক বন্দি শহিদুল জানান, করাগারের মধ্যে মৌসুমে ডাটা, পালং, মুলা ও বেগুন চাষ করে প্রতি ওয়াক্ত ওই সব তরকারি বন্দিদের খাওয়ানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের পিপি অ্যাডভোকেট খান আখতারুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, আমি কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, তাই এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
তবে তিনি জানান, কোন কোন সময় জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের হয়রানীর কথা শোনা গেলেও বিকাল ৫টার আগে জামিনের কাগজ কারাগারে না পৌছানোর কারণে তাদের জামিন হয় না।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম মশিয়ার রহমান জানান, ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কোনো অসহায় বন্দি থাকলে আমরা তাকে আইনগত সহায়তা প্রদান করি।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগার পরিদর্শন টিমের সভাপতি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক খাজা আব্দুল হান্নান বাংলানিউজকে জানান, আমি তো প্রায় কারাগার ভিজিটে যায়, কৈ আমার কাছে তো বন্দিরা এ সব অভিযোগ করেন না।
তিনি আরও বলেন, “কারাগার তো আর বন্দিদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর জায়গা না। তারপরও বলবো ঝিনাইদহ জেলা কারাগার আগের চেয়ে অনেক ভালো।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে খাবারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হাসপাতাল বেড নিয়ে অর্থ বানিজ্য এবং বন্দিদের সঙ্গে দেখা করার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়।
কারাগার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কয়েদি হাজতিদের নিয়ে কারা প্রশাসন, ঠিকাদার ও কারাগারের মধ্যে মেট নামে মাস্তানদের দৌরাত্ম্য চলে আসলেও কোনো প্রতিকার নেই।
বন্দিদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলেই মারধরের সঙ্গে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে সাজা ও বেশি বাড়াবাড়ি করলে যশোর জেল খানায় পাঠিয়ে হয়রানী করা হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, সরকারি নিয়ম না থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থী ফি হিসেবে ৫ টাকা আবার কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি নিচ্ছেন। এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়না। পুরোটায় ভাগাভাগি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সব সময় সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতার আত্মীয়স্বজনরা কারাগারের ঠিকাদারী পেয়ে থাকেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা নিম্নমানের তেল, কাঁচা বাজার, মাছ ও মাংস সরবরাহ করে থাকেন।
বন্দিদের অভিযোগ মাংসের তরকারিতে মাংস এবং মাছের তরকারিতে মাছ পাওয়া দুস্কর। করা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজসে ঠিকাদাররা বন্দিদের মাথাপ্রতি বরাদ্দ লোপাট করছেন নিম্নমানের খাবার দিয়ে।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সুপারেনটেনডেন্ট ইকবাল হোসেন জানান, ১৯১৮ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার শহরের নবগঙ্গা নদীর তীরে ৫২ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ঝিনাইদহ উপ-কারাগারটি স্থাপন করেন।
তিনি আরও জানান, ৯২ বছর একইস্থানে ৫২ জনের পরিবর্তে ৫ থেকে ৬শ বন্দি নিয়ে উপ-কারাগারটি দাড়িয়ে ছিল। ২০১০ সালে ঝিনাইদহের মথুরাপুর নামক স্থানে জেলা কারাগারটি নতুন আঙ্গিকে নির্মাণ শেষে চালু করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতা দুইশ হলেও বর্তমান ৫৪৩ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৫২৬ ও মহিলা ১৭ জন। করাগারটিতে এখন বিচারাধীন মামলায় ৩৭৩ জন হাজতি ও সাজাপ্রাপ্ত ১৭০ জন কয়েদি রয়েছের। একজন বন্দি ব্রিটিশ সরকারের করা নিয়মে কারাগারে ৩৬ স্কয়ার ফিট স্থান পেয়ে থাকেন।
জেল সুপার ইকবাল হোসেন জানান, করাগারে একজন বন্দি সারাদিনে মাত্র ৪০ টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ পাচ্ছেন। ব্রিটিশ সরকারের আমলে তৃতীয় শ্রেণীর বন্দির জন্য এই বরাদ্দ এখনো রয়েছে, যা বর্তমান দ্রব্যমুল্য ও বাস্তবের চাহিদায় অপ্রতুল বলে তিনি মনে করেন।
তিনি খাবার নিয়ে বন্দিদের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারিভাবে গুদাম থেকে যে চাল ও গম বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাই বন্দিদের খাওয়ানো হয়। চাল ও গমের মান ভালো নয় বলে তিনিও মনে করেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী এলাকার ডাকাতি মামলায় আটক বন্দি শহিদুল জানান, করাগারের মধ্যে মৌসুমে ডাটা, পালং, মুলা ও বেগুন চাষ করে প্রতি ওয়াক্ত ওই সব তরকারি বন্দিদের খাওয়ানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের পিপি অ্যাডভোকেট খান আখতারুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, আমি কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, তাই এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
তবে তিনি জানান, কোন কোন সময় জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের হয়রানীর কথা শোনা গেলেও বিকাল ৫টার আগে জামিনের কাগজ কারাগারে না পৌছানোর কারণে তাদের জামিন হয় না।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম মশিয়ার রহমান জানান, ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কোনো অসহায় বন্দি থাকলে আমরা তাকে আইনগত সহায়তা প্রদান করি।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগার পরিদর্শন টিমের সভাপতি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক খাজা আব্দুল হান্নান বাংলানিউজকে জানান, আমি তো প্রায় কারাগার ভিজিটে যায়, কৈ আমার কাছে তো বন্দিরা এ সব অভিযোগ করেন না।
তিনি আরও বলেন, “কারাগার তো আর বন্দিদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর জায়গা না। তারপরও বলবো ঝিনাইদহ জেলা কারাগার আগের চেয়ে অনেক ভালো।