শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মহেশপুরের সেই ক্লিনিকের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা বাজারের জননী ক্লিনিক ও নার্সিং হোমের মালিক, অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক এবং ক্লিনিকের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। উপজেলার বাগানমাঠ গ্রামের জেসমিন আক্তারের ভাই আলাউদ্দিন বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার মহেশপুর থানায় মামলাটি করেন। জেসমিন ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার আলাউদ্দিনের অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। ক্লিনিকের মালিক মোমিনুর রহমান, অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক গোলাম রহমান ও ক্লিনিকের একজন কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।

ক্লিনিকটিতে ৪০ দিনের ব্যবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া চার প্রসূতির মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন মহেশপুর উপজেলার জাগুসা গ্রামের রুপা খাতুন, অনন্তপুর গ্রামের আরিফা খাতুন, কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের বিথি খাতুন ও জীবননগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের সালেহা বেগম। এ নিয়ে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে ‘অস্ত্রোপচারের পর চার প্রসূতির মৃত্যু, ঝুঁকিতে ৫ জন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয় প্রশাসন। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সিভিল সার্জন আবদুস সালামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত দল বৃহস্পতিবার ভৈরবা এলাকায় যায়। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থ প্রসূতিদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলে। কোন ক্লিনিকে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার করা হয়, কোন চিকিৎসক তাঁদের অস্ত্রোপচার করেন—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এরপর তারা যায় মৃত প্রসূতিদের বাড়ি। সেখানে তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে।
মৃত প্রসূতি সালেহা বেগমের বাবা মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত দলের সদস্যরা যেভাবে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছে, তাতে তাঁর মনে সন্দেহ হয়েছে, তারা চিকিৎসকদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে।