বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০১৬

ঝিনাইদহের কৃতি সন্তান প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

ঝিনাইদহ: প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, টিভি আলোচক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের প্রফেসর ড. খন্দকার মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (৫৫) সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। এসময় তার ব্যক্তিগত গাড়ী চালক সেন্টুমিয়াও (৩২) নিহত হন।

শিক্ষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ ড. খন্দকার মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মাগুরার বাস টার্মিনাল এলাকায় কাভার্ডভ্যানের চাপায় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ইবি শিক্ষক সমিতি।


জানা যায়, বুধবার সকালে ঝিনাইদহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। মাগুরার বাস টার্মিনালের পাশে পারনান দোয়ালীতে  পৌঁছালে তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের সঙ্গে একটি কাভার্ট ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ড.আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ও গাড়ি চালক সেন্টু। এছাড়া আহত হয়েছেন আসাদ ও বাহাউদ্দিন নামে দুজন। তাদের মাগুরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, টিভি আলোচক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের প্রফেসর ড. খন্দকার মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
এবিষয়ে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলে গাড়ির ড্রাইভারসহ দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়। আহতদের মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মাগুরা সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কাভার্ডভ্যানটি জব্ধ করা হয়েছে।

এদিকে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও টিভি আলোচক ড. জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক বার্তার মাধ্যমে শোক জানিয়েছেন ইবি শিক্ষক সমিতি।জানা গেছে তিনি ১৯৬১ সালে ঝিনাইদহের গোবিন্দপুরে খন্দকার আনোয়ারুজ্জামানের পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন জ্ঞান পিপাসু ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী। ইসলামী শিক্ষার প্রতি ছোট বেলা থেকেই ছিলেন খুবই অনুরাগী।

ছোটবেলা ঝিনাইদহ শহরের মাদ্রাসায় তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। এরপর তিনি ঝিনাইদহ আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৭৩ সালে দাখিল, ১৯৭৫ সালে আলিম ও ১৯৭৭ সালে ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে সফলতার সঙ্গে ফাজিল পাশ করেন। ১৯৭৯ সালে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আল-হাদীস বিভাগ থেকে ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে কামিল পাস করেন।ইসলামী শিক্ষার পাশা পাশি তিনি জেনারেল শিক্ষায় মাগুরার কলেজ থেকে ১৯৮০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি সৌদি আরবের আল ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে আরবী ভাষা ও সাহিত্যর উপর ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে বিএ অনার্স শেষ করেন। ১৯৯২ সালে আরবী ব্যাকারণের ওপর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। পরে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।