মহেশপুরঃ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান মোয়াবিয়া হুসাইনকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ণ ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব লুৎফুন নাহার ১৯ মে তারিখে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং ৪৬.০৪৬.০২৭.০০.০০.১৪৯. ২০১৪.৭৩৯) তাদের সায়িক ভাবে বরখাস্ত করার আদেশ জারী করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান মোয়াবিয়ার বিরুদ্ধে কোটচাদপুর থানায় ২০১৩ সালের ১ মার্চ ও একই বছরের ৫ জুলাই একং ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারী তারিখে দায়েরকৃত ৩টি মামলার অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় তাদের দ্বারা উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থি মর্মে সরকার মনে করে। সেহেতু উপজেলা পরিষদ ১৯৯৮ (উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১১ দ্বারা সংশোধিত এর ১৩খ (১) ধারা অনুসারে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাদুর উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান পদ থেকে তাজুল ইসলাম এবং ভাইস চেয়ারম্যান মোয়াবিয়া হুসাইনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কোটচাঁদপুর থানার ওসি আহম্মদ কবীর জানান, মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও মোয়াবিয়া হুসাইনের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় ৭টি করে মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মামলায় চার্জসিট প্রদান করা হয়েছে। গত ৯ মাস ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম অফিস করেন না। উপজেলা পরিষদের কর্মচারীরা জীবননগরের মাধবপুর দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে তার সাক্ষর করিয়ে আনতেন বলে জানা গেছে। পুলিশের খাতায় পলাতক তাজুল ইসলাম উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে প্রায় উপস্থিত থাকতেন বলে সুত্রটি জানায়।
অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান মোয়াবিয়া হুসাইন একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে এখন জেল হাজতে আছেন। দুই জনপ্রতিনিধির বরখাস্তের বিষয়টি কোটচাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবপ্রসাদ পাল নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার বিকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ণ ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত আদশেটি তিনি হাতে পেয়েছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার নামে বরাদ্দকৃত টিআর, কাবিটা, জিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। এ সব বরাদ্দের ২০% টাকা ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
